ব্রেকিং নিউজ
হোম chevron_right জাতীয় chevron_right ঘুষ দিলেই মিলে জমির পর্চা!
জাতীয় ১৫ দিন আগে ব্রেকিং

ঘুষ দিলেই মিলে জমির পর্চা!

person
আরটিডি নিউজ ডেস্ক
schedule 25 জুন 2026, 11:15 পূর্বাহ্ন
visibility ৯১ বার পড়া হয়েছে
menu_book ২ মিনিটে পড়া যায়
ঘুষ দিলেই মিলে জমির পর্চা!
ছবি: আরটিডি নিউজ ডেস্ক

নোয়াখালীতে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া মিলছে না জমির রেকর্ড, পরচা, মৌজার নকশাসহ সেটেলমেন্ট অফিসের অন্যান্য সেবা। এমনই অভিযোগ রেকর্ড কিপার সহ সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। সেবা নিতে এসে দালালদের খপ্পরে পড়ে হয়রানি ও টাকা নেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

সেটেলমেন্ট অফিসে প্রদর্শিত সিটিজেন চার্টার থেকে জানা যায়,নোয়াখালী জেলা অফিসে ভূমি মালিকগণকে ফিসহ পরচার নকল, খতিয়ান ও নকশা প্রদান এবং ফি ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করা হয়।মঙ্গলবার বেলা বারোটার দিকে নোয়াখালী জেলা সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার কার্যালয় ঘুরে দেখা যায় উল্টো চিত্র। সিটিজেন চার্টারের সঙ্গে মিল নেই সেবা প্রদানে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপসংক্রান্ত সেবা ঘুষ ছাড়া মিলছে না।মিলছে না জমির পরচা আর মৌজার নকশাও। সেবা পেতে সরকারের নির্ধারিত ফি ছাড়াও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। দালাল ও টাকার মাধ্যমে সহজেই সেবা পাওয়া যায়। এর বাইরে সেবা নিতে গেলেই হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রতিদিনই ঘটছে এমনটা। তবে কাজ না হওয়ার ভয়ে মুখ খুলছে না অনেকেই।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় সেটেলমেন্ট অফিস। গেলে অফিসের সামনে কয়েকজন দালালকে দেখা যায়। তারা দেখেই বলেন খতিয়ান লাগবে?।।টাকা দেন খতিয়ে নিয়ে দিচ্ছি।একজন জমির মালিক থেকে পেশকার হুমায়ুন কবির টাকা নিচ্ছে। পরে এ প্রতিবেদকের মুঠোফোনে এই ছবিটি ধারণ করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দিলে দালাল ও অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা এদিক ওদিক ছোটাছুটি শুরু করে। এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় দালাল জাকিরের। তিনি বলেন,সে নোয়াখালী সদর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দ। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে এই অফিসের দালালি করেন। মাঝে মধ্যে কর্মকর্তারা ৩০ ও ৩১ ধারা মামলার নোটিশ জারি করতে তাদের পাঠান। নোটির জারি করতে গেলে বাদী বিবাদীর কাছ থেকে ৫০০/ ১০০০ টাকা করে নেন। আর মাঝে মধ্যে এই অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে ৫০০/৭০০ টাকা করে নিয়ে খতিয়ান দিয়ে থাকেন।প্রতিটি নকশায় সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে ১০০০ টাকা করে নিয়ে ৭০০ টাকা করে এ অফিসের পেশকার হুমায়ুন কবিরকে দেন। প্রতি খতিয়ানে ৪০০ টাকা করে নিয়ে এই পেশকার খতিয়ান সরবরাহ করেন। আর দালালরা প্রতি খতিয়ানে ২০০/৩০০ টাকা করে পান।

ওই অফিসের দালাল জিহাদ বলেন, নোয়াখালী সেটেলমেন্ট অফিসের পিয়ন ইকবাল, ওমর আলী, ফারুক, অজয়, মহিউদ্দিন ও শাহেদ জমির রেকর্ড, পরচা, মৌজার নকশার দালালি করে থাকে। জমির মালিকরা সেবা নিতে এলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে অফিস থেকে হাতে লিখে পর্চা সরবরাহ করেন।

এই অফিসে সেবা নিতে আসা নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর গ্রামের ফখরুল ইসলামের ছেলে সারওয়ার হোসেন অভিযোগ করে জানান, তিনি তার জমির মাঠ পর্চা নিতে এসে এ অফিসের দালালদের খপ্পরে পড়েন। দালালরা তার কাছ থেকে দুটি পর্চা দিতে ২০০০ টাকা দাবি করে। পরে তারা পেশকার হুমায়ুন কবিরের কাছে নিয়ে যায়। পেশকারকে টাকা দিলে তাকে হাতে লিখে খতিয়ান দেন।

সরেজমিনে গেলে ওই অফিসের পিয়ন মহিউদ্দিন ও শাহেদকে চেয়ার টেবিলে বসে পর্চা লিখতে দেখা যায়।মহিউদ্দিন বলেন, তিনি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই অফিসে কর্মরত রয়েছেন। দালালদের উৎপাত এই অফিসে বেড়েছে। জমির মালিকরা অফিসে আসার পূর্বেই বাহিরে দালালরা পর্চা সরবরাহ করতে তাদের সাথে চুক্তি করেন।দালালদের সাথে পারা যায় না। সেবা প্রার্থীরা অফিসে এলে ৩০০/৪০০ টাকা নিয়ে পর্চা দিয়ে থাকেন।

নোয়াখালী সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার হুমায়ুন কবির জানান,দুই একশ টাকা দিলে তিনি নেন। এটা সত্য। তবে জমির মালিকদের পর্চা সরবরাহ করায় উপকারও হচ্ছে।

নোয়াখালী জেলা সেটেলমেন্ট অফিসার (উপসচিব) সুমন চৌধুরী জানান, এই অফিসে ঘুষ নেয়া দেয়া তার জানা নেই। এখান থেকে পচা সরবরাহের নিয়ম নেই। তবুও কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে তিনি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

share শেয়ার করুন

Facebook X / Twitter